৪০ দিনের সংঘাতে ইরান ব্যাপক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও সেতুসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, যার প্রভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান পিরহোসেইন কলিভান্দ এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে কলিভান্দ বলেন, সারা দেশে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ আবাসিক স্থাপনা, যেগুলোর কিছু অংশ ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে’। এছাড়া ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের স্থান ছিল।
স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে—৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি ও জরুরি সেবা কেন্দ্র ধ্বংস বা অচল হয়ে গেছে।
শিক্ষা খাতে ক্ষতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। অন্তত ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রেডক্রসের ২০টি স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে সামরিক অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ ও শারাউদসহ চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং ২৯টি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই সংঘাত ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।












